ডা : রাজেন্দ্র প্রসাদের জীবনী | Dr. Rajendra Prasad Biography In Bengali

1
117
Dr. Rajendra Prasad Biography In Bengali

ডা : রাজেন্দ্র প্রসাদের জীবনী : রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি যখন আমাদের প্রজাতন্ত্র কার্যকর হয়, তখন ড : প্রসাদ এই পদে সম্মানিত হন। স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম সরকারে ড : রাজেন্দ্র প্রসাদকে পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে খাদ্য ও কৃষি বিভাগের কাজ অর্পণ করা হয়েছিল, এর সাথে তিনি ভারতের গণপরিষদে সংবিধান প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত হন। রাজেন্দ্র প্রসাদ গান্ধী ছিলেন অন্যতম প্রধান শিষ্য, তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। তার নাম মূলত একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নেওয়া হয়। রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন বিহারের প্রধান নেতা। সল্ট ব্রেক মুভমেন্ট এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তাকে কারাগারের অত্যাচারও সহ্য করতে হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রসাদ জি নির্দলীয় এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি কংগ্রেস পার্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। প্রসাদ ভারতে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বেশি জোর দিতেন তিনি নেহরু সরকারকে অনেকবার তার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

রাজেন্দ্র প্রসাদ জন্ম ও পরিবার –

ড : প্রসাদ ১৮৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিহারের একটি ছোট গ্রাম জিরাদেইতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহাদেব সহায় এবং মাতার নাম কমলেশ্বরী দেবী। তার বাবা সংস্কৃত ও ফারসি ভাষার একজন মহান পণ্ডিত ছিলেন, মা যখন একজন ধার্মিক মহিলা ছিলেন তখন তিনি রাজেন্দ্র প্রসাদের কাছে রামায়ণের গল্প বলতেন। ১২ বছর বয়সে ড : প্রসাদের বাল্যবিবাহ হয়েছিল। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল রাজবংশী দেবী।

ড : রাজেন্দ্র প্রসাদের শিক্ষা –

৫ বছর বয়সে প্রসাদের বাবা -মা তাকে একজন মৌলভীর কাছে পাঠানো শুরু করেন, যাতে তিনি ফার্সি, উর্দু, হিন্দি জ্ঞান পেতে পারেন। ড : রাজেন্দ্র প্রসাদের প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর গ্রাম জিরাডেই হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। তার ভাই মহেন্দ্র প্রতাপের সাথে তিনি পাটনার টি কে ঘোষ একাডেমিতে যোগ দিতে শুরু করেন। এর পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি খুব ভালো নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, এর পর তিনি প্রতি মাসে ৩০ টাকা বৃত্তি পেতে শুরু করেছিলেন। প্রথমবার তার গ্রামের একজন যুবক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সফল হয়েছিল যা অবশ্যই রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং তার পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় ছিল।

১৯০২ সালে প্রসাদ প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগ দেন সেখান থেকে তিনি স্নাতক হন। তিনি ১৯৭০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ করেন। তিনি ১৯১৫ সালে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, যার জন্য তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এর পর তিনি আইনে ডক্টরেট ডিগ্রিও অর্জন করেন। এর পরে তিনি পাটনায় এসে ওকালতি শুরু করেন, যার কারণে তিনি প্রচুর অর্থ এবং নাম পেয়েছিলেন।

তিনি নিজেকে সরলতা, সেবা, ত্যাগ, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে পুরোপুরি নিবেদিত করেছিলেন। ডা : রাজেন্দ্র বাবু ছিলেন খুবই সহজ এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ তিনি সব শ্রেণীর মানুষের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতেন।

ডা : রাজেন্দ্র প্রসাদের রাজনীতিতে প্রথম পদক্ষেপ –

বিহারে ব্রিটিশ সরকারের নীলক্ষেত ছিল সরকার তার শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি দেয়নি। ১৯১৭ সালে গান্ধীজি বিহারে এসে এই সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেন। সেই সময় ড : প্রসাদ গান্ধীজীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তিনি তাঁর আদর্শে খুব মুগ্ধ হয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে সমগ্র ভারত জুড়ে নাগরিক আন্দোলন   হয়েছিল। গান্ধীজি সমস্ত স্কুল সরকারি অফিস বর্জনের আবেদন করেছিলেন। এর পর ড : প্রসাদ তার চাকরি ছেড়ে দিলেন।

চম্পরণ আন্দোলনের সময় রাজেন্দ্র প্রসাদ গান্ধীজীর অনুগত সঙ্গী হয়েছিলেন। গান্ধীর প্রভাবে আসার পর তিনি তার পুরনো এবং রক্ষণশীল মতাদর্শ ত্যাগ করেন এবং একটি নতুন শক্তি নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে কংগ্রেস আন্দোলন শুরু করে। এই সময় ড : প্রসাদকে কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছিল। ১৯৩৪ সালে তাকে বোম্বে কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়, তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল। তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেই সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল।

যদিও ভারত ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ এ স্বাধীনতা লাভ করেছিল, তার কিছুদিন আগে গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল। ভীমরাও আম্বেদকর এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ সংবিধান প্রণয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড : প্রসাদ ভারতের সংবিধান কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ড : প্রসাদ সংবিধানে স্বাক্ষর করে তা স্বীকৃতি দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজেন্দ্র প্রসাদ –

১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি ড : রাজেন্দ্র প্রসাদের রূপে ভারত তার প্রথম রাষ্ট্রপতি পায়। ১৯৫৭ সালে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজেন্দ্র প্রসাদ আবার রাষ্ট্রপতি করা হয়। এই প্রথম একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হলেন। তিনি ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। ১৯৬২ সালে তিনি তার পদ ছেড়ে পাটনায় চলে যান এবং জন সেবা করে বিহার বিদ্যাপীঠে বসবাস শুরু করেন।

ডা : রাজেন্দ্র প্রসাদ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন –

১৯৬২ সালে তিনি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের জন্য ভারতের সেরা বেসামরিক সম্মান “ভারতরত্ন” লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজন পণ্ডিত, মেধাবী, এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ।

ডা : রাজেন্দ্র প্রসাদের মৃত্যু –

ড : প্রসাদ ১৯৬৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তাঁর জীবন সম্পর্কিত এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা সাক্ষ্য দেয় যে রাজেন্দ্র প্রসাদ অত্যন্ত দয়ালু এবং বিশুদ্ধ প্রকৃতির ছিলেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ স্মৃতি সংগ্রাহালয় পাটনায় নির্মিত হয়েছিল।

আরো পড়ুন

ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়াল জীবনী

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here